শেষ চিঠির ঠিকানা | হৃদয়ছোঁয়া বাংলা গল্প
গল্পের নাম: শেষ চিঠির ঠিকানা
বর্ষার শেষ বিকেল। আকাশে মেঘের ভাঁজ, মাঝেমধ্যে বিদ্যুতের চিকচিক। ছোট্ট শহর শান্তিনগরের পুরোনো ডাকঘরটি যেন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বুড়িয়ে গেছে। এখন আর কেউ খুব একটা চিঠি পাঠায় না। সবাই মোবাইল আর ইন্টারনেটেই ব্যস্ত।
কিন্তু ডাকঘরের এক কোণে বসে প্রতিদিন একজন মানুষ একই কাজ করে চলেছেন। তাঁর নাম আবদুল করিম। বয়স প্রায় পঁয়ষট্টি। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পরও সপ্তাহে কয়েক দিন তিনি পুরোনো ডাকঘরে এসে বসেন। কারণ এই জায়গার সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর জীবনের সবচেয়ে সুন্দর আর সবচেয়ে বেদনাদায়ক স্মৃতি।
করিম সাহেবের একমাত্র মেয়ে নীলা। ছোটবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে চিঠি লেখার অদ্ভুত অভ্যাস ছিল তার। যখন নীলা কলেজে পড়ত, তখনও সে বাবাকে চিঠি লিখত, যদিও তারা একই শহরে থাকত। করিম সাহেব বলতেন, “মুখের কথা ভুলে যায়, কিন্তু চিঠির কালি কখনো মুছে যায় না।”
বছর দশেক আগে নীলা উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে চলে যায়। প্রথম প্রথম নিয়মিত চিঠি আসত। তারপর ধীরে ধীরে চিঠি কমে যায়। একসময় শুধু ই-মেইল, তারপর ভিডিও কল। কিন্তু করিম সাহেব সেই কাগজের গন্ধটাই বেশি ভালোবাসতেন।
একদিন হঠাৎ সব যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
ফোন বন্ধ।
ই-মেইল বন্ধ।
মেয়েদের সাদা স্রাবের সমস্যা: কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধের সম্পূর্ণ গাইড
বুকের দুধ খাওয়ানোর উপকারিতা, নিয়ম ও সমস্যা সমাধান | Breastfeeding Guide
যৌন শক্তি বৃদ্ধির উপায় | যৌন দুর্বলতা দূর করার প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক সমাধান
সোশ্যাল মিডিয়াতেও কোনো খোঁজ নেই।
সবাই বলেছিল, হয়তো নতুন জীবনে ব্যস্ত হয়ে গেছে।
কিন্তু একজন বাবা কখনো বিশ্বাস করতে পারেননি যে মেয়ে তাঁকে ভুলে যেতে পারে।
তাই আজও তিনি প্রতিদিন ডাকঘরে এসে বসেন।
হয়তো কোনো দিন একটা চিঠি আসবে...
...
একই শহরের অন্য প্রান্তে থাকে আরেকজন মানুষ—আরিফ। বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করেও কোনো চাকরি পায়নি। সংসারের অভাব, বাবার অসুস্থতা আর নিজের ব্যর্থতা মিলিয়ে জীবনটা যেন থেমে গেছে।
একদিন হঠাৎ বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে সে সেই পুরোনো ডাকঘরে ঢুকে পড়ে।
ভেতরে ঢুকেই দেখে বৃদ্ধ একজন মানুষ পুরোনো খামগুলো পরিষ্কার করছেন।
আরিফ কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করল,
—চাচা, এখনো কি কেউ চিঠি পাঠায়?
করিম সাহেব হেসে বললেন,
—কম পাঠায়, কিন্তু যেগুলো আসে, সেগুলোর মূল্য অনেক বেশি।
আরিফ বলল,
—এখন তো সবাই মোবাইলে কথা বলে।
—হ্যাঁ। কিন্তু মোবাইলের কথার কোনো গন্ধ নেই। চিঠির থাকে।
এই অদ্ভুত উত্তর শুনে আরিফ কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
সেদিনের পর থেকে প্রায়ই সে ডাকঘরে যেতে শুরু করল।
ধীরে ধীরে দুজনের মধ্যে এক ধরনের বন্ধুত্ব তৈরি হলো।
...
একদিন করিম সাহেব আরিফকে একটি কাঠের পুরোনো বাক্স দেখালেন।
বাক্সের ভেতরে শত শত চিঠি।
কেউ প্রেমপত্র লিখেছে।
কেউ মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়েছে।
কেউ যুদ্ধক্ষেত্র থেকে শেষ চিঠি পাঠিয়েছে।
আবার এমনও চিঠি আছে, যেগুলো কখনো তাদের গন্তব্যে পৌঁছায়নি।
আরিফ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,
—এগুলো এখনো রেখে দিয়েছেন?
করিম সাহেব বললেন,
—এগুলো শুধু কাগজ নয়। মানুষের জীবন।
তারপর একটি হলুদ হয়ে যাওয়া খাম বের করলেন।
খামের ওপর লেখা—
"আমার বাবার জন্য"
ভেতরে ছিল নীলার লেখা শেষ চিঠি।
চিঠিতে লেখা ছিল—
"বাবা, যদি কোনো দিন আমি অনেক দূরে চলে যাই, তবুও বিশ্বাস করবেন আমি আপনাকে ভুলব না। মানুষের জীবনে অনেক ঝড় আসে। কিন্তু আপনার শেখানো সাহস আমাকে সব সময় বাঁচিয়ে রাখবে..."
চিঠির বাকিটা ভিজে গিয়েছিল।
সম্ভবত চোখের জলে।
...
সেই রাতেই আরিফ বাড়ি ফিরে ঘুমাতে পারল না।
তার মনে হতে লাগল, পৃথিবীতে হয়তো হাজারো মানুষ আছে যারা কোনো উত্তর না পাওয়া চিঠির মতো অপেক্ষা করে যাচ্ছে।
হয়তো তাদের কাউকে একটু সাহস দিলেই জীবন বদলে যেতে পারে।
পরদিন সে সিদ্ধান্ত নিল একটি অভিনব কাজ করবে।
সে শহরের মানুষের জন্য একটি "চিঠির দেয়াল" বানাবে।
যেখানে যে কেউ নিজের মনের কথা লিখে ঝুলিয়ে রাখতে পারবে।
যে চিঠির কোনো ঠিকানা নেই, সেটাও।
প্রথম দিন মাত্র তিনটি চিঠি এল।
দ্বিতীয় দিন বারোটি।
এক সপ্তাহের মধ্যে শতাধিক।
কেউ মৃত বাবাকে লিখেছে।
কেউ পুরোনো প্রেমকে।
কেউ নিজের ছোটবেলার নিজেকেই।
চিঠির দেয়ালটি ধীরে ধীরে পুরো শহরের আলোচনার বিষয় হয়ে উঠল।
...
এক বিকেলে ডাকঘরে হঠাৎ একজন বিদেশি কুরিয়ার কর্মী এসে একটি খাম রেখে গেল।
খামের ওপর বড় অক্ষরে লেখা—
"শুধু আবদুল করিমের হাতে পৌঁছাবে।"
করিম সাহেবের হাত কাঁপতে শুরু করল।
তিনি ধীরে ধীরে খামটি খুললেন।
ভেতরে একটি মাত্র কাগজ।
আর তার সঙ্গে একটি পুরোনো ছবি।
ছবিতে ছোট্ট নীলা বাবার হাত ধরে হাসছে।
কাগজে মাত্র দুটি লাইন—
"বাবা, আমি ফিরছি। তবে হয়তো আপনি আমাকে আগের মতো চিনতে পারবেন না..."
চিঠির নিচে কোনো ঠিকানা নেই।
কোনো ফোন নম্বর নেই।
শুধু একটি তারিখ।
আর সেই তারিখটি ছিল... আগামীকাল।
পরদিন সকাল থেকেই আবদুল করিম সাহেবের চোখ বারবার ঘড়ির দিকে চলে যাচ্ছিল। রাতভর তাঁর ঘুম হয়নি। মাত্র দুটি লাইন লেখা একটি চিঠি যেন তাঁর দশ বছরের অপেক্ষাকে আবার নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে।
"বাবা, আমি ফিরছি। তবে হয়তো আপনি আমাকে আগের মতো চিনতে পারবেন না..."
এই কথার অর্থ কী?
কেন তিনি চিনতে পারবেন না?
আর এত বছর পর হঠাৎ এই ফিরে আসা কেন?
আরিফও সেদিন খুব সকালে ডাকঘরে চলে এল। করিম সাহেবের মুখে উদ্বেগ আর আশার অদ্ভুত মিশ্রণ দেখে সে বুঝতে পারছিল, আজকের দিনটা অন্য রকম।
দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলো।
প্রতিটি বাস থামলেই করিম সাহেব উঠে দাঁড়াচ্ছেন। প্রতিটি রিকশা এলেই তাঁর চোখে একরাশ আশা জেগে উঠছে। কিন্তু আবার হতাশা।
ঠিক সূর্য ডোবার আগে একটি সাদা গাড়ি ডাকঘরের সামনে এসে থামল।
গাড়ি থেকে নামলেন প্রায় ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ বছরের এক নারী। তাঁর মাথায় হালকা ওড়না, মুখে ক্লান্তির ছাপ, কিন্তু চোখ দুটো অদ্ভুত পরিচিত।
নারীটি কয়েক পা এগিয়ে এসে থেমে গেল।
করিম সাহেব তাকিয়ে রইলেন।
দুজনেই কিছুক্ষণ কোনো কথা বলতে পারলেন না।
তারপর নারীটি ধীরে ধীরে বলল,
—বাবা...
শব্দটি শোনামাত্র করিম সাহেবের চোখ ভিজে উঠল।
—নীলা!
তিনি ছুটে গিয়ে মেয়েকে জড়িয়ে ধরলেন।
কিন্তু জড়িয়ে ধরতেই তিনি টের পেলেন, নীলার শরীর খুব দুর্বল। তার মুখে আগের সেই হাসি নেই।
কিছুক্ষণ পর সবাই ডাকঘরের ভেতরে বসল।
করিম সাহেব কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করলেন,
—মা, এত বছর কোথায় ছিলে? একটা খবরও দিলে না কেন?
নীলা গভীর নিঃশ্বাস ফেলল।
—বাবা, আমি ইচ্ছে করে হারিয়ে যাইনি।
সে বলতে শুরু করল।
বিদেশে পড়াশোনার সময় একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় সে গুরুতর আহত হয়েছিল। দীর্ঘ কয়েক মাস কোমায় ছিল। জ্ঞান ফেরার পর স্মৃতিশক্তির অনেকটাই হারিয়ে যায়। নিজের নাম পর্যন্ত মনে করতে পারত না।
হাসপাতাল, চিকিৎসা আর পুনর্বাসনে কেটে যায় অনেক বছর।
ধীরে ধীরে কিছু স্মৃতি ফিরে এলেও বাবার ঠিকানা, পুরোনো ফোন নম্বর—সব হারিয়ে গিয়েছিল।
একদিন পুরোনো একটি বাক্স গোছাতে গিয়ে সে নিজের লেখা সেই চিঠিগুলো খুঁজে পায়।
চিঠির প্রতিটি লাইন যেন তার হারিয়ে যাওয়া স্মৃতির দরজা খুলে দেয়।
সে মনে করতে শুরু করে—
শৈশব...
ডাকঘর...
বাবার হাসি...
বৃষ্টির দিনে একসঙ্গে চিঠি লেখা...
তারপর অনেক খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে পুরোনো ডাকঘরের ঠিকানা খুঁজে পায়।
কিন্তু দেশে ফেরার আগেই চিকিৎসক তাকে জানিয়েছিলেন, দুর্ঘটনার কারণে তার হৃদ্যন্ত্র খুব দুর্বল হয়ে গেছে।
অপারেশন দরকার।
সফলও হতে পারে, আবার নাও হতে পারে।
তাই সে ভয় পেয়েছিল।
যদি বাবাকে দেখার আগেই কিছু হয়ে যায়?
সেই কারণেই সে প্রথমে শুধু একটি ছোট চিঠি পাঠিয়েছিল।
করিম সাহেব নীরবে সব শুনছিলেন।
তারপর মেয়ের মাথায় হাত রেখে বললেন,
—তুই ফিরে এসেছিস, এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার।
পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে নীলা ধীরে ধীরে আগের জীবনে ফিরে আসতে শুরু করল।
এদিকে আরিফের "চিঠির দেয়াল" সারা শহরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
মানুষ সেখানে নিজের না বলা কথাগুলো লিখে রেখে যায়।
একদিন নীলা দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে একটি চিঠি লিখল।
চিঠিতে লেখা ছিল—
"যদি কোনো দিন মনে হয় জীবনে আর কেউ নেই, তাহলে বাড়ি ফিরে যাও। হয়তো কেউ একজন এখনো প্রতিদিন তোমার জন্য অপেক্ষা করছে।"
চিঠিটি পড়ে অনেকেই চোখের জল লুকাতে পারেনি।
কয়েক মাস পরে করিম সাহেব ও নীলা মিলে সেই পুরোনো ডাকঘরের একটি অংশকে ছোট্ট একটি 'চিঠি জাদুঘর' বানিয়ে ফেললেন।
সেখানে রাখা হলো বহু বছরের পুরোনো চিঠি, পোস্টকার্ড, ডাকটিকিট আর মানুষের গল্প।
স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা সেখানে আসতে শুরু করল।
তারা শিখল—
একটি চিঠি শুধু কয়েকটি শব্দ নয়।
এটি একজন মানুষের অনুভূতি, অপেক্ষা, ভালোবাসা আর স্মৃতির সাক্ষী।
একদিন আরিফ জিজ্ঞেস করল,
—চাচা, এত বছর অপেক্ষা করে কখনো কি মনে হয়নি, নীলা আর ফিরবে না?
করিম সাহেব মৃদু হেসে উত্তর দিলেন,
—যে ভালোবাসা সত্যি হয়, সে কখনো শেষ হয় না। কখনো চিঠি হয়ে ফিরে আসে, কখনো মানুষ হয়ে।
সেদিন সন্ধ্যায় ডাকঘরের দরজায় একটি নতুন বোর্ড টাঙানো হলো।
তাতে লেখা ছিল—
"শেষ চিঠির ঠিকানা নয়, প্রতিটি সত্যিকারের ভালোবাসারই একটি ঠিকানা থাকে। শুধু পৌঁছাতে সময় লাগে।"
বৃষ্টি আবার শুরু হলো।
ডাকঘরের টিনের ছাদে টুপটাপ শব্দ পড়ছে।
করিম সাহেব, নীলা আর আরিফ বারান্দায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখছিলেন।
করিম সাহেব পকেট থেকে একটি সাদা খাম বের করে নীলার হাতে দিলেন।
নীলা অবাক হয়ে বলল,
—এটা কী?
করিম সাহেব হেসে বললেন,
—এটা তোমার জন্য লেখা আমার প্রথম চিঠি। কোনো দিন পাঠাতে পারিনি।
নীলা খাম খুলল।
ভেতরে মাত্র একটি লাইন—
"পৃথিবী যত বড়ই হোক, সন্তানের জন্য বাবার অপেক্ষার ঠিকানা কখনো বদলায় না।"
চিঠিটি পড়ে নীলা বাবার হাত শক্ত করে ধরে ফেলল।
ডাকঘরের পুরোনো ঘড়িটি তখন সন্ধ্যা ছয়টা বাজাচ্ছিল।
আর সেই মুহূর্তে মনে হচ্ছিল, দশ বছরের অপেক্ষা যেন অবশেষে নিজের ঠিকানায় পৌঁছে গেছে।
—সমাপ্ত—
===============
আজ কোর্টের ১৭ নম্বর এজলাসে এক অভিনব কেস উঠেছে। এক ভদ্রমহিলা জীবনের মধ্যাহ্ন পেরিয়ে এসে স্বামীর কাছ থেকে আলাদা হতে চান, নিঃশর্তে। অথচ, স্বামী তার স্ত্রীকে কিছুতেই ছাড়তে চান না।
সংসার করতে তার আর ভালো লাগছে না। তাই, সব কিছু থেকে নিজেকে মুক্ত করতে নিঃশর্তে ডিভোর্স চাইছেন দাম্পত্য জীবন থেকে। কিন্তু স্বামী চান, স্ত্রীর সাথে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত কাটাতে। একমাত্র মেয়ে তার নিজের জীবনে প্রতিষ্ঠিত, তাই জীবনের বাকি সময়টা স্ত্রীয়ের সাথে একান্তে, আনন্দে কাটিয়ে দিতে চান তিনি।
আরও পড়ুনঃ
শেষ চিঠি – হৃদয়স্পর্শী মানবিক বাংলা গল্প | আবেগঘন অনুপ্রেরণামূলক গল্প
বাবার শেষ উপহার | হৃদয়স্পর্শী মানবিক বাংলা গল্প | জীবন বদলে দেওয়া গল্প
এক মুঠো ভাত – হৃদয়স্পর্শী মানবিক বাংলা গল্প | অনুপ্রেরণামূলক গল্প
Men's Wellness and Reproductive Health: A Complete Guide to Healthy Living
White Vaginal Discharge in Women: Causes, Symptoms, Treatment & Prevention

