আদরের মেয়ে

 নতুন বিয়ে হয়েছে আমাদের। কাজ খুব একটা ভালো জানিনা। সেদিন জামাই বললো গলা ব্যথা করছে হাল্কা, আদা দিয়ে কড়া করে রঙ চা বানিয়ে খাওয়াতে। আমিও সুন্দর মত বানিয়ে দিলাম জামাই ও খেয়ে নিলো।

আগেই বলে রাখা ভালো; আমার জামাই কখনই আমার কোনো রান্না নিয়ে অভিযোগ করেনা। মজা না হলেও বলে মজা। রঙ চা খাওয়ার কিছুক্ষণ পর জিজ্ঞেস করলাম ব্যথা কমছে? সে বললো গলা ব্যথা তো কমছে কিন্তু গলা কেমন জানি চুলকাচ্ছে।
বুঝে উঠতে পারলাম না গলা চুলকানোর কি আছে। পরে সে মিনমিন করে বললো একটা কথা বলি রাগ করবে না তো? আমি বললাম রাগ করবো কেন বলো। সে বললো চা তে আমি আদার কোনো ঘ্রাণ পাইনি, তুমি কষ্ট পাবে বলে কিছু বলিনাই। এরপর গিয়ে দেখি আমি উনাকে আদা না মুখি দিয়ে চা বানিয়ে খাওয়াইছি।🙂

কপাল ভালো এমন একজন স্বামী পাইছি, নাহলে সংসার করা লাগতো না আর আমার। আপুরা এখনও সময় আছে আমার মত ভুল করা থেকে সাবধান। 🙂

====================================

বান্ধবী কল দিয়ে বললো তার ছেলে হয়েছে। আমি খুশির ঠেলা সামলাতে না পেরে পাশে থাকা পাঁচ বছরের ছোট্ট মেয়েকে জড়িয়ে ধরে ঠোঁটে একটা চুমু দিয়ে বললাম, আলহামদুলিল্লাহ! আমার মেয়ে, আমার এমন কান্ডে তার মস্তিষ্কে ধীরে ধীরে লালন করা ছোট্ট প্রশ্ন গড়গড় করে বের করে দিলো।
- আম্মু তোমার কি হয়েছে? তুমি আমাকে জড়িয়ে ধরে চুমু দিলে কেন?
- আমার হয়নি, আমার বান্ধবীর ছেলে হয়েছে।
- তাহলে তোমার কেন হলো না আম্মু?

মেয়ের কথার কি জবাব দেবো বুঝতে পারছি না। তবুও সান্ত্বনা তো দিতে হবে। নাহলে আবার কেঁদেকেটে বাড়িঘর মাথায় তুলে ফেলবে। তাই তাকে বললাম,
- কে বলেছে আমার হয়নি! আমারও তো হয়েছে। আমার কিউট একটা দুষ্ট মিষ্টি আম্মু হয়েছে।
বলেই আবার একটা চুমু দিলাম ওর ঠোঁটে। কিন্তু তাতেও মনে হচ্ছে কোনো লাভ হলো না। সে আবার আমাকে জিজ্ঞেস করলো,
- তোমার আম্মু হয়েছে! তার মানে আমার থেকে আরো একটা আম্মু হয়েছে! তাহলে এখন থেকে আমার দুইটা আম্মু।
কি দিয়ে কি বুঝে নিলো আমার মেয়ে! সব মাথার উপর দিয়ে গেলো আমার। আমার মেয়ের মাথায় এমন প্যাচ কবে থেকে হলো কে যানে! আমি আর ওর কথার পিঠে কোনো কথা বললাম না, নাহলে আবার কি দিয়ে কি বুঝে নিবে কে জানে!
পাকের ঘরে এসে রান্না করছিলাম হুট করে পিছন থেকে এসে আমার মেয়েটা আমাকে জড়িয়ে ধরলো। আদরের সুরে আমার কোলে উঠতে চাইলো। আমি কোলে নিয়ে গালে একটা চুমু দিয়ে দিলাম টুস করে। বললাম,
- আম্মু তো এখন রান্না করছি তুমি পাশের রুমে গিয়ে খেলো, মামনী।
- আমি তোমাকে একটা প্রশ্ন করে চলে যাবো আম্মু।
- ওহ! আচ্ছা। কি প্রশ্ন, মামনী?
- আমার আরেকটা আম্মু কোথায়, আম্মু? তাকে কেন দেখি না কখনো? সে কি আমায় ভালোবাসে না তোমার মতো?
ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলাম মেয়ের কথা শুনে। কি বলবো এখন? এমন প্রশ্ন করবে জীবনেও ভাবিনি। এই মেয়ে দিন দিন এমন আজব টাইপের হয়ে যাচ্ছে কেন? আগে তো এমন আজগুবি কথাবার্তা বলতো না। আমি এখন কি বলে সান্ত্বনা দেবো এই মেয়েকে?
- ইয়ে না মানে, মামনী...।

- আচ্ছা আম্মু, আরেকটা কথা বলি। তুমি কি বিয়ে করেছো? আর বিয়ে করলে তোমার বর কোথায় আম্মু?
এমনিতেই আজকাল খুব গরম পরছে বাহিরে। পাকের ঘরে আরো বেশি গরম। আর এখন ওর কথা শুনে আমার মাথাটাই গরম হয়ে গেছে। পাকের ঘর থেকে বের হয়ে এসে বসলাম বেড রুমে ফ্যান ছেড়ে। একটু বাতাস খেয়ে নেই আগে। মাথা পুরো হ্যাং হয়ে গেছে আমার মেয়ের কথা শুনে।
আমার মেয়ে তার প্রশ্নের জবাব না পেয়ে আবার আমাকে জিজ্ঞেস করলো,
- কি হলো আম্মু, বলছো না কেন?
- আসলে তোমার আরেকটা আম্মুকে আনতে হলে তোমার বাবাকে বলতে হবে। আর আমার বরকে দেখবে?
- হ্যাঁ দেখবো।
- তাহলেও তো তোমাকে তোমার বাবার কাছে যেতে হবে।
- তাহলে আমাকে বাবার কাছে নিয়ে চলো না আম্মু।
- হ্যাঁ হ্যাঁ নিয়ে যাচ্ছি। এখনই নিয়ে যাচ্ছি চলো।

কোনো মতে বোরকাটা পরে নিচে এসে একটা রিকশা নিয়ে সোজা অভির (আমার স্বামী) দোকানের সামনে চলে আসলাম। আমাদের দেখে অভি খুব খুশী হলো। সারাদিন কাষ্টমার সামলানোর ঝামেলার মধ্যে নিজের আপন মানুষের মুখ দেখা বোধহয় খুব আনন্দের। তাই মনে হয় অভিও আমাদেরকে দেখে খুব আনন্দিত হয়েছে। কিন্তু তার এই আনন্দ একটু পরেই ঝরো হাওয়ায় বাশের চিকন চিকন পাতার মতো উড়ে চলে যাবে কোনো এক পুকুরে। আমি পিচ্চিটাকে অভির কাছে দিয়ে ওকে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে বললাম,

- আমার একটু কাজ আছে অভি। আমার বান্ধবীর ছেলে হয়েছে। আমাকে এখন সেখানে যেতে হবে। তুমি আমাকে কিছু টাকা দাও বেবি।

বেবি বলাতে মনে খুব অবাক হয়েছে। বিয়ের আগে তাকে আমি আদর করে বেবি, সোনা আরো হাবিজাবি বলে ডাকতাম। বিয়ের আগে বয়ফ্রেন্ডকে এগুলো বলাই যায়। কিন্তু বিয়ের পর স্বামীর সাথে ঝগড়া মারামারি হাতাহাতি করেই কুল পাই না আবার বেবি, সোনা বলে কখন ডাকবো! প্রায়ই রাতের বেলা আমি আর অভি মারামারি হাতাহাতি করা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করি।

অভি ক্যাশবাক্স থেকে কিছু টাকা বের করে দিয়ে আমাকে কিছু বলতে চাচ্ছিলো মনে হলো। কিন্তু আমি তাকে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়েই কেটে পরলাম। আপাতত এখানে থাকা যাবে না। রাতে বাসায় গিয়ে দেখবো অভির অবস্থা কি হয়। আহারে! বেচারা আমার নাদুসনুদুস স্বামীটার জন্য খুব মায়া হচ্ছে কারণ তার আদরের মেয়েটা এখনই তার জীবনে ঝর উঠিয়ে দিতে দিবে। সেই ঝরে সে কোথায় গিয়ে পড়বে কে জানে!

রম্যগল্পঃ #আদরের মেয়ে
#আসাদ
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url